গজারিয়ায় (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
গজারিয়ায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাচালক শাহজালাল হত্যাকাণ্ডের ৩৫ দিন পর হত্যার রহস্য উন্মোচনের করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এই ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে আটক এবং তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নিহত শাহজালালের অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে। আটকৃতরা হলো, গজারিয়া উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে ইব্রাহিম ওরফে সাগর (২৭) ও কুমিল্লার কুমিল্লার কোতোয়ালি থানা এলাকার দাউদেরখাড়া গ্রামের খোরশেদের ছেলে ফাহিম (২৪)। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার পাঁচগাছিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘাতক ইব্রাহিম ওরফে সাগরকে ও রাত নয়টার দিকে ভবেরচর বাস স্ট্যান্ড এলাকায় থেকে ফাহিমকে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কুমিল্লার কোতোয়ালি থানা এলাকায় ফাহিমের বাড়ি থেকে নিহত শাহজালালের অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে গত শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তুলে ধরেন মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম। তিনি বলেন, ‘অপরাধী এবং ভিকটিম পরস্পর পূর্ব পরিচিত ছিল, তারা দুজনেই পেশায় রিকশাচালক। অপরাধী ইব্রাহিম ওরফে সাগর নেশাসক্ত ছিল।সে দীর্ঘদিন ধরে ভিকটিম শাহজালালকে খুন করে তার অটোরিকশাটি ছিনতাই করার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ইব্রাহিম ওরফে সাগর ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কোমল পানির সাথে চেতনানাশক ঔষুধ খাইয়ে রশি দিয়ে শাহজালালের হাত-পা বেঁধে সুবিধামতো জায়গায় নিয়ে নদীতে ফেলে দেয়। পরবর্তীতে সে শাহজালালের অটোরিকশাটি চালিয়ে কুমিল্লা গিয়ে তার বন্ধু ফাহিমের কাছে সেটি বিক্রি করে দেয়। আটককৃত আসামিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন তারা। মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, শাহজালাল পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন। গত ৫ ডিসেম্বর সকালে অন্যান্য দিনের মতো ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা নিয়ে বের হন তিনি। রাতে বাসায় না ফিরলে বিষয়টি সন্দেহ হয় পরিবারের লোকজনের।তার সন্ধান পেতে খোঁজাখুঁজি শুরু করে তার স্বজনরা। পরের দিন (৬ ডিসেম্বর) সকালে মধ্য বাউশিয়া গ্রাম সংলগ্ন কাজলী নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। গজারিয়া থানা সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পরের দিন নিহত অটোরিকশা চালক শাহজালালের বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম বাদি হয়ে গজারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata